রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ইসলামে পুরুষ ও নারীর পর্দা

লিখেছেন- Shamsuddha Al Amin

যখন কেউ ইসলাম প্রচার করতে যায় তখন সবার প্রথম দিকে যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে একটি হল- ইসলামে নারীর পর্দা। অমুসলিম বা মর্ডান মুসলিমদের মন্তব্যের ধরণ গুলো অনেকটা এমন-

১. ইসলাম নারীকে পর্দা দিয়ে পিছনে নিয়ে যাচ্ছে।
২. ইসলাম নারীকে পর্দা দিয়ে অপমান করছে।
৩. ইসলাম নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না
৪. ইসলাম নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করতে বাধা দেয়।
৫. পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাধা দেয়।
৬. ইসলাম নারীকে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

এমন আরও নানা প্রশ্ন ও মন্তব্য। আজকের দিনে বেশিরভাগ মিডিয়ার সবচেয়ে বড় টার্গেট হল নানা ভাবে ইসলামকে ছোট করা। ছোট করার জন্য তারা হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় উপরের মন্তব্যগুলো। আমি এখানে পর্দা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। অধিকার ও অন্যান্য বিষয়ে পরে লিখব ইনশাআল্লাহ।

আসুন একনজরে ইসলাম পূর্ববর্তী নারীর অবস্থা কেমন ছিল দেখে নেই।

রাসূল(সাঃ) এবং জয়নব(রাঃ) এর বিয়ে সংক্রান্ত আলোচনা

লিখেছেনঃ Shamsuddha Al Amin

অমুসলিমদের একটা বড় আলোচনার বিষয় হল তারা জয়নব(রাঃ) এর সাথে রাসূল(সাঃ) এর বিয়ে নিয়ে অনেক কথা বলেন। তাদের বাজে মন্তব্যের কোন উত্তর দিতে চাই না। তবে যারা একটু মাথা খাটিয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করেন তাদের উত্তর দিতে এসেছি। অনেকেই প্রশ্ন করেন, পুত্রবধুকে বিয়ে করার কি দরকার ছিল?? অনেকে বলেন, তাদের নিজের মেয়ের মত কাছে রেখে দিলে কি সমস্যা ছিল?? সকল বিষয় নিয়েই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

এই বিয়ে নিয়ে আলোচনার আগে আমাদের সবারই কিছু প্রেক্ষাপট জানা দরকার।

জয়নব(রাঃ) রাসূল(সাঃ) এর ফুফাতো বোন। তিনি প্রথমে কুরাইশদের মধ্যে থেকে কাউকে বিয়ে করেছিলেন যার নাম জানা যায় নি। বিধবা হয়ে জয়নব(রাঃ) তার ভাইয়ের সাথে ছিলেন। সম্ভবত ৬২৫ খ্রীষ্টাব্দে রাসূল(সাঃ) জয়নব(রাঃ) এর কাছে যায়েদ(রাঃ) এর বিয়ের প্রস্তাব দেন। যায়েদ(রাঃ) ছিলেন একজন কৃতদাস এবং উপহার স্বরূপ তাকে রাসূল(সাঃ) কে দেওয়া হয়। রাসূল(সাঃ) এর ছেলে সন্তানরা শিশু বয়সে মারা যাবার কারণে রাসূল(সাঃ) যায়েদ(রাঃ)কে অনেক ভালবাসতেন। এবং তিনি তাকে পালক পুত্রের মত দেখতেন। সবাই তাকে যায়েদ বিন মোহাম্মদ(রাঃ) বলে ডাকতেন। পরবর্তীতে কুরআন এর আয়াত নাযিল হলে যায়েদ(রাঃ) কে তার পিতৃ পরিচয়ে ডাকা হত।

জয়নব(রাঃ) প্রথমে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কারণ তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের এবং যায়েদ(রাঃ) একজন কৃতদাশ ছিলেন। পরে তাকে বুঝানোর পর জয়নব(রাঃ) সম্মতি দেন এবং বিয়ে করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু সমস্যায় তাদের বিয়ে ভেংগে যায়। জাযেদ(রাঃ) জয়নব(রাঃ) সম্পর্কে রাসূল(সাঃ) এর কাছে নালিশ করলে রাসূল(সাঃ) বলেন- আল্লাহকে ভয় কর এবং তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখ। [১]

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

Scientific error in Qur`an ************************ Error 404: not Found

লিখেছেন: শমশের



        কুরআন শরীফ এক অপার বিস্ময়! কিভাবে এতে হাজারের উপর বৈজ্ঞানিক আয়াত মাথা উচু করে স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে নাস্তিকসহ বোদ্ধামহলে এক বিরাট কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার কিভাবে কুরআন এর সাথে মিলে যাচ্ছে তার কোন জাগতিক ব্যাখ্যা আমরা খুঁজে পাইনা। এতসব আবিষ্কার যতই কুরআন এর সাথে মিলে যাচ্ছে ততই কমছে নাস্তিকতার পাল্লাটা। ইউরোপ সহ সারাবিশ্বে ইসলাম এখন দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম। অপর দিকে কুটিল মনের নাস্তিকদের সংখ্যা যে দিনকে দিন কমছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নাস্তিকতার কঠিন বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে এসে ফরহাদ মজহারদের মত লোক আজ মৌলবাদী হয়ে যায়। নাস্তিকরা কুরআন থেকে যতগুলি কন্ট্রাডিকশন খুজে বের করার চেষ্টা করেছে ততবার ধরা খেয়েছে। 
কুরআনে  কোন বৈজ্ঞানিক ভুল না পেয়ে তারা এরপর শুরু করে অপপ্রচার। কুরআনে যা বলা হয়নি, তাই তারা বলা শুরু করে। তাদের অপপ্রচারের একটা প্রোপাগ্যান্ডা হল পৃথিবী সমতল। তারা দাবি করে কুরআনে নাকি বলা হয়েছে পৃথিবী সমতল। প্রমাণ হিসেবে তারা যেসব আয়াত ব্যবহার করে তা দেখলে একজন সাধারন শিশুও হাসবে। তারা যেভাবে এসব আয়াত ব্যবহার করে তাতে আসলে না হাসার কোন কারন নেই। যাইহোক তাদের এই প্রোপাগ্যান্ডার জবাবটা আমরা দিব। এখানে জবাবের কিছুই নেই, বরঞ্চ তাদের আলোর দিকে নিয়ে আসাটাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করব এরপরে তারা আর এবিষয়ে তর্ক করবেনা। আজকে আমার উদ্দেশ্য পৃথিবীকে গোলাকার প্রমাণ করা নয়। কারন তা প্রমাণ করতে কেবল একটা শব্দই যথেষ্ট। দাহাহা। 
rashad khalifa কিংবা QXP[Shabbir Ahmed (writer)] 
এর অনুবাদ দিয়েই তা প্রমান করে যায়। একটা অনুবাদ ও একটা স্ক্রিনশর্ট দিচ্ছি দাহাহা নিয়ে। 

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৫

বিবর্তনবাদের ক্রমবিকাশতত্ত্ব, একজন চার্লস ডারউইন ও একজন গ্রেগর মেন্ডেল

লিখেছেন: আদনান ইউনূস



        চার্লস ডারউইনের ক্রমবিকাশ তত্ত্ব বিশ্লেষণে একথা প্রমানিত যে তা অন্তঃসার ও একবিন্দু অভিনবত্ব নেই। তা থেকে এমন কোন নতুন তত্ত্বের সন্ধান দিতে পারেনি যা পূর্বে কারো জানা ছিল না। ডারউইন ক্রমাগত কয়েক বছরের অবিশ্রান্ত অনুসন্ধান ও চিন্তা-গবেষনার পর একটি তত্ত্ব হিসেবে তার মতকে জনসমক্ষে পেশ করেছেন। তাঁর একমাত্র কৃতিত্ব ও বিশেষত্ব এতটুকুই। কেননা জীবনের ক্রমবিকাশ সংক্রান্ত চিন্তাধারা প্রাচীন গ্রীক দর্শনের একটি অংশ হিসেবে বর্ণিত ও বিবৃত হয়ে এসেছে বহুকাল আগে থেকেই। জীবনের বিভিন্ন আকার আকৃতি(FORMS OF LIFE) সহ বিশ্বালোকের প্রত্যেকটি বস্তু পরিবর্তন ও বিবর্তন লাভ করেছে বলে গ্রীক দার্শনিক হিরাক্লিটাস খৃষ্টপূর্ব পাঁচশ বছর পূর্বে মত প্রকাশ করেছিলেন। এম্পডোকলিস খৃষ্টপূর্ব সাড়ে চারশ বছর পূর্বে দাবি করেছিলেন। জীবন প্রস্তর থেকে উদ্ভুত আর জীব জন্তু প্রাণী অস্তিত্ব পেয়েছে উদ্ভিদ থেকে। প্রাচীন মুসলিম দার্শনিক ও অধ্যান্তবিদরাও ক্রমবিকাশবাদের কোন না কোন তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু সেসব ছিল নিতান্তই ধারনা, অনুমান ও চিন্তাবিলাস মাত্র। মানুষ প্রত্যেকটি জটিল ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ ও সুবোধ্যরুপে দেখতে ইচ্ছুক ওসব চিন্তাধারা এ প্রবণতারই ফল। কিন্তু তার পিছনে যুক্তির ভিত্তি ছিল অনুপস্থিত।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

ইসলামে পশু অধিকার

লিখেছেন:  মিজানুর রহমান



        শিরোনামটা অনেককে অবাক করবে। অনেকের ঠোঁট প্রসারিত হয়ে মুখে একটা মুচকি হাসি খেলে যাবে। হুহ! যে ধর্মে কুরবানী নামের পশুবলি উৎসব আছে সে ধর্মে আবার পশু অধিকার! আমাদের সমাজে এমন লোকের মোটেও অভাব নাই। কুরবানীর কারনে অনেকেই মনে করেন ইসলাম একটা হিংস্র ধর্ম। অথচ সত্যটা একেবারেই উলটো। ইসলাম পশু পাখিদের যে অধিকার চৌদ্দশ বছর আগে দিয়েছে সেগুলোর জন্য মাত্র কিছু বছর থেকে সরকার এবং বিভিন্নসংস্থা গুলো ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইসলামে জীব জন্তুদের অধিকার জানার আগে আমাদের একটা কথা জেনে নেওয়া উচিত। আল্লাহ পশুপাখি এবং পৃথিবীর সবকিছু অর্থাৎ গাছ, জল, আকাশ, সূর্য শুধুমাত্র মানুষদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ [সূরা বাক্বারাহ/২৯]।
ইসলাম বৈধ পশু-পাখি খাওয়া জায়েয। ইসলাম এমন অযৌক্তিক কথা বলেনা যে সকলে নিরামিষভোজী হও অথবা প্রাণ খেওনা। এটা একেবারেই অবৈজ্ঞানীক ওযুক্তিহীন কথা। সকলে নিরামিষভোজী হলে পৃথিবী টিকেই থাকতো না। আর উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, তাহলে মানুষ খাবে কী?! ইসলাম পশু পাখি খাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে আবার সেই সাথে কিছু সাবধানবানীও দিয়েছে। ইসলাম পশু-পক্ষীর ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। অকারণে তাদের মেরা ফেলা, খাওয়ার জন্য ছাড়া হত্যা করা, তাদের উপর বেশী বোঝা চাপানো, নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদের কষ্ট দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, :-‘আল্লাহর অভিশাপ সেই ব্যক্তির উপর, যে(অকারণে) পশুর অঙ্গহানী ঘটায় [নাসাঈ/৪৪৪২ ; ইবনে হিব্বান ,বাইহাকী]।