লিখেছেন: আদনান ইউনূস
চার্লস ডারউইনের ক্রমবিকাশ তত্ত্ব বিশ্লেষণে একথা প্রমানিত যে তা
অন্তঃসার ও একবিন্দু অভিনবত্ব নেই। তা থেকে এমন কোন নতুন তত্ত্বের সন্ধান
দিতে পারেনি যা পূর্বে কারো জানা ছিল না। ডারউইন ক্রমাগত কয়েক বছরের
অবিশ্রান্ত অনুসন্ধান ও চিন্তা-গবেষনার পর একটি তত্ত্ব হিসেবে তার মতকে
জনসমক্ষে পেশ করেছেন। তাঁর একমাত্র কৃতিত্ব ও বিশেষত্ব এতটুকুই। কেননা
জীবনের ক্রমবিকাশ সংক্রান্ত চিন্তাধারা প্রাচীন গ্রীক দর্শনের একটি অংশ
হিসেবে বর্ণিত ও বিবৃত হয়ে এসেছে বহুকাল আগে থেকেই। জীবনের বিভিন্ন আকার
আকৃতি(FORMS OF LIFE) সহ বিশ্বালোকের প্রত্যেকটি বস্তু পরিবর্তন ও
বিবর্তন লাভ করেছে বলে গ্রীক দার্শনিক হিরাক্লিটাস খৃষ্টপূর্ব পাঁচশ বছর
পূর্বে মত প্রকাশ করেছিলেন। এম্পডোকলিস খৃষ্টপূর্ব সাড়ে চারশ বছর পূর্বে
দাবি করেছিলেন। জীবন প্রস্তর থেকে উদ্ভুত আর জীব জন্তু প্রাণী অস্তিত্ব
পেয়েছে উদ্ভিদ থেকে। প্রাচীন মুসলিম দার্শনিক ও অধ্যান্তবিদরাও
ক্রমবিকাশবাদের কোন না কোন তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু সেসব ছিল
নিতান্তই ধারনা, অনুমান ও চিন্তাবিলাস মাত্র। মানুষ প্রত্যেকটি জটিল ও
দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ ও সুবোধ্যরুপে দেখতে ইচ্ছুক ওসব চিন্তাধারা এ
প্রবণতারই ফল। কিন্তু তার পিছনে যুক্তির ভিত্তি ছিল অনুপস্থিত।